Top News

এলপিজি গ্যাস নিয়ে চরম দুঃসংবাদ



 হঠাৎ উধাও এলপিজি, বেশি দামেও মিলছে না

হঠাৎ এলপি গ্যাসের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন ভোক্তারা। বেশি দাম দিয়েও গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। কয়েক দিন আগের ১,২৫৩ টাকার এলপিজি শুক্রবার বিক্রি হয়েছে ১,৮০০ থেকে ২,৫০০ টাকায়। এরপরও অনেক এলাকায় মিলছে না এলপিজির সিলিন্ডার। খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, ডিলারদের কাছ থেকেই সরবরাহ নেই, তাই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় লাইনের গ্যাসেও তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ক্যাব বলছে, বিইআরসির নীরবতায় বাজারে বড় ধরনের কারসাজি চলছে। শুধু রাজধানী নয়, দেশজুড়েই এ পরিস্থিতি বিরাজ করছেরাজধানীর শনিবার আকেরা গোবিন্দপুর এলাকার বাসিন্দা মেহেদী হাসান গতকাল শুক্রবার সকালে একই এলাকার শামসুলের গ্যাসের দোকান থেকে সিলিন্ডার কিনতে গিয়ে দেখেন দোকান বন্ধ; দোকানদারকে ফোন করলে তিনি জানান, তার কাছে কোনো গ্যাসের সিলিন্ডার নেই। এরপর তিনি পুরো এলাকা ঘুরেও গ্যাস কিনতে পারেননি। বেশি দাম দিয়েও গ্যাস না পেয়ে তিনি রেস্তোরাঁ থেকে খাবার কিনে বাসায় ফেরেন। মেহেদী হাসান আমার দেশ-কে বলেন, এমন পরিস্থিতির শিকার ইতোপূর্বে কখনো হইনি।ডেমরার সারুলিয়া এলাকার বাসিন্দা তৈয়বুর রহমান জানান, ১,২৫০ থেকে ১,৩০০ টাকার সিলিন্ডার শুক্রবার কিনেছেন ১,৮০০ টাকায়। দুপুরে তা ২,২০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখেছেন তিনি। বিকেলের দিকে অনেকে এর চেয়েও বেশি দাম দিয়েও গ্যাস কিনতে পারেননি। তিনি বলেন, দাম বাড়ার কারণ জানতে চাইলে দোকানদাররা সরবরাহ সংকটের কথা জানিয়েছেন।শুধু এলপি গ্যাসের সংকট নয়, লাইনের গ্যাসেরও সংকট দেখা দিয়েছে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায়। শুক্রবার শনির আকেরা পলাশপুর এলাকার বাসিন্দা আসাদুজ্জামান বলেন, গত চার দিন ধরে লাইনে গ্যাস নেই; রেস্তোরাঁ থেকে খাবার কিনে খাচ্ছি। ফলে বুঝতেই পারছেন আমরা কতটা বিপদে আছি।


মতিঝিলের মানিকনগর এলাকার ইশরাত জাহান মম আমার দেশকে বলেন, আমাদের এলাকায় লাইনে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। দিনের বেশির ভাগ সময় খুবই অল্প গ্যাস আসে। নিভু নিভু চুলা জ্বললেও তাতে রান্না করা যাচ্ছে না। এ সংকট দীর্ঘদিনের হলেও কয়েক দিন ধরে তা তীব্র আকার ধারণ করেছে।


এ বিষয়ে ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) বলছে, বিইআরসি এলপিজির দাম নির্ধারণ করে দিলেও মাঠপর্যায়ে তা বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না—সেটা তদারকি না করায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিইআরসির ভূমিকার শৈথিল্যের কারণেই ভোক্তারা এমন বিপাকে রয়েছেন।


শুক্রবার রাতে ক্যাবের সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন আমার দেশ-কে বলেন, সরকার নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত থাকায় সরবরাহকারী ও খুচরা ব্যবসায়ীরা সুযোগ নিচ্ছে। আমরা খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি, শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার ২,৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে। এটা খুবই অস্বাভাবিক ঘটনা। সরবরাহে সংকট থাকলেও বেশি দামে তো ঠিকই পাওয়া যাচ্ছে। অথচ বেশি দামে বিক্রি আইনত অপরাধ। বিইআরসির শৈথিল্যকেই দায়ী করব। তারা দাম নির্ধারণ করলেও বাজার মনিটরিংয়ে তাদের ভূমিকা নেই। তারা এই কারসাজির বিরুদ্ধে শাস্তি নিশ্চিত করতে পারছে না। এ সংস্থাটির প্রতি ভোক্তাদের অনাস্থা তৈরি হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসনও বাড়তি দামের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছেএ প্রসঙ্গে এলপিজি সিলিন্ডার পরিবেশক সমিতির সভাপতি সেলিম খান বলেন, অধিকাংশ কোম্পানি সরবরাহ বন্ধ রাখায় হাতে গোনা কয়েকটি কোম্পানির এলপিজি সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে চাহিদার তুলনায় সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে খুবই কম। এ ছাড়া প্রতি সিলিন্ডারে কোম্পানি বাড়তি দাম নিচ্ছে। তবে সরকারিভাবে দাম বাড়ানোর আগে ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা বাড়তি নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।


এদিকে আগামী ৪ জানুয়ারি বিইআরসির নতুন দাম ঘোষণার কথা রয়েছে। বিইআরসি ও এলপিজি ব্যবসায়ীদের সংগঠন এলপিজি অপারেটরস অব বাংলাদেশ (লোয়াব) সূত্র বলছে, শীতের সময়ে বিশ্ববাজারে এলপিজির চাহিদা বেড়ে যায় এবং দামও কিছুটা বাড়ে। এর সঙ্গে এবার যুক্ত হয়েছে এলপিজি আমদানির জাহাজসংকট। নিয়মিত এলপিজি পরিবহনের ২৯টি জাহাজ যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার মধ্যে পড়েছে। পরিবহন খরচ বেড়ে গেছে। তারপরও চাইলেই জাহাজ পাওয়া যাচ্ছে না। এতে আগের মাসের তুলনায় গত মাসে এলপিজি আমদানি কমে গেছে। প্রতি মাসে গড়ে ১ লাখ ৩০ হাজার থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার টন এলপিজি আমদানি করা হয়। ডিসেম্বরে আমদানি করা হয়েছে ৯০ হাজার টন। আমদানি খরচ বাড়ায় কিছু কোম্পানি কিছুটা বাড়তি দাম রাখতে পারে।


এ প্রসঙ্গে লোয়াবের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও এনার্জিপ্যাকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হুমায়ুন রশীদ গণমাধ্যমকে বলেন, ডিসেম্বরে এলপিজি আমদানি কমেছে প্রায় ৪০ শতাংশ। সরবরাহ সংকটের কারণেই মূলত বাজারে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়ে২০২১ সালের এপ্রিল থেকে প্রতি মাসে এলপিজির দাম নির্ধারণ করে আসছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। তবে বাজারে বাড়তি দামে বিক্রির অভিযোগ সব সময়ই ছিল। কিন্তু এবারের মতো এত বেশি দামে বিক্রির পরিস্থিতি আগে দেখা যায়নি। বিষয়টি ইতিমধ্যে বিইআরসির নজরে এসেছে। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে গত বৃহস্পতিবার এলপিজি ব্যবসায়ীদের সংগঠন লোয়াবকে চিঠি দিয়েছে বিইআরসি।


সেই চিঠিতে বলা হয়, ডিসেম্বরের জন্য প্রতি কেজি এলপিজির দাম ১০৪ টাকা ৪১ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। সে হিসাবে প্রতি ১২ কেজির দাম ১,২৫৩ টাকা। নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে বলে কমিশনে অভিযোগ এসেছে। কমিশনের আদেশ অনুযায়ী, এলপিজি মজুত ও বোতলজাতকরণ, ডিস্ট্রিবিউটর এবং ভোক্তার কাছে খুচরা বিক্রেতার কোনো পর্যায়েই বাড়তি দামে বিক্রি করা যাবে না। তাই সব পর্যায়ে নির্ধারিত দামে এলপিজি বিক্রি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করা হয়।


বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, বাড়তি দামে বিক্রির বিষয়টি নজরে আসায় লোয়াবকে চিঠি দিয়ে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। আমদানিকারকদের আমদানি খরচ বাড়লে তারা তা কমিশনে জমা দেবে। কাগজে-কলমে বাড়তি খরচের বিষয়টি নিশ্চিত হলে কমিশন নতুন মূল্য সমন্বয়ের ক্ষেত্রে তা বিবেচনায় নেবে। তার আগে বাড়তি দামে বিক্রির কোনো সুযোগ নেই।ছে। না।।

🎁 Your Special Offer is Loading...

Please wait a moment. You'll be redirected automatically after the countdown.

10s

⏳ Stay here — your offer will open in a new page.
✅ Redirect happens only once per session.

Post a Comment

Previous Post Next Post