ভেনেজুয়েলায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একক সামরিক ক্ষমতা খর্ব করতে বৃহস্পতিবার মার্কিন সিনেটে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব পাসের প্রক্রিয়া চলছে। কারাকাসে নাটকীয় এক অভিযানে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো মার্কিন বাহিনীর হাতে বন্দি হওয়ার প্রেক্ষাপটে এই ভোটাভুটি বিশ্বরাজনীতিতে নতুন উত্তাপ ছড়িয়েছে।
কংগ্রেসের পূর্ব অনুমতি ছাড়া ভেনেজুয়েলায় আর কোনো সামরিক পদক্ষেপ যাতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিতে না পারেন, সেই লক্ষ্যেই এই প্রস্তাব আনা হয়েছে। প্রস্তাবের সমর্থকরা আশা করছেন, এবার হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর এটি পাস হয়ে যেতে পারে। গত সেপ্টেম্বর থেকে ভেনেজুয়েলার উপকূলে নৌযানগুলোতে মার্কিন হামলার পর থেকেই ট্রাম্পের ‘যুদ্ধ ক্ষমতা’ নিয়ন্ত্রণে আনার দাবি জোরালো হয়। এর আগের ভোটাভুটিতে মাত্র দুই ভোটের ব্যবধানে রিপাবলিকানরা প্রস্তাবটি আটকে দিলেও, মাদুরোকে বন্দি করার ঘটনায় অনেক রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাও এখন ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর ক্ষুব্ধপ্রশাসনিক কর্মকর্তারা এর আগে বারবার দাবি করেছিলেন যে ভেনেজুয়েলায় শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন বা সরাসরি হামলার কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই। কিন্তু হঠাৎ মাদুরোকে বন্দি করার ঘটনায় ডেমোক্র্যাটদের পাশাপাশি অনেক রিপাবলিকান সদস্যও মনে করছেন যে প্রশাসন কংগ্রেসকে অন্ধকারে রেখেছে। কেন্টাকির রিপাবলিকান সিনেটর র্যান্ড পল জানিয়েছেন যে অন্তত দু’জন নতুন রিপাবলিকান সিনেটর এবার প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেওয়ার কথা গুরুত্ব দিয়ে ভাবছেন। বর্তমানে ১০০ আসনের সিনেটে রিপাবলিকানরা ৫৩-৪৭ ব্যবধানে সংখ্যাগরিষ্ঠ থাকলেও দলের ভেতরের এই বিদ্রোহ ট্রাম্পের জন্য দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।প্রস্তাবটির অন্যতম উদ্যোক্তা টিম কেইন মনে করেন, ভেনেজুয়েলার তেল সম্পদ জব্দ এবং ট্রাম্পের বিভিন্ন বক্তব্য প্রমাণ করে এটি কেবল একটি সাধারণ অভিযান নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধ। মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী যেকোনো বড় সামরিক অভিযানে কংগ্রেসের অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক। তবে বিরোধীদের দাবি, মাদুরোকে গ্রেপ্তার করা একটি আইনি প্রক্রিয়া এবং কমান্ডার-ইন-চিফ হিসেবে প্রেসিডেন্টের সীমিত সামরিক ক্ষমতা ব্যবহারের অধিকার রয়েছে। মাদুরো বর্তমানে মাদক ও অস্ত্র চোরাচালানের অভিযোগে মার্কিন আদালতে বিচারের মুখোমুখি।সিনেটে প্রস্তাবটি পাস হলেও এটি আইনে পরিণত হওয়া বেশ কঠিন। কারণ একে রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত প্রতিনিধি পরিষদেও পাস হতে হবে। এছাড়া প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার বিশেষ ‘ভেটো’ ক্ষমতা প্রয়োগ করলে তা বাতিল করতে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রয়োজন হবে, যা বর্তমান রাজনৈতিক মেরুকরণে প্রায় অসম্ভব। তবে ট্রাম্পের সামরিক বাজেট ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার ঘোষণার পর ব্যয়বহুল যুদ্ধে জড়ানো নিয়ে অনেক আইনপ্রণেতাই এখন সাবধানী অবস্থান নিচ্ছেন।।
🎁 Your Special Offer is Loading...
Please wait a moment. You'll be redirected automatically after the countdown.
⏳ Stay here — your offer will open in a new page.
✅ Redirect happens only once per session.

Post a Comment