Top News

ক্যান্সার প্রতিরোধে অ্যান্টি-ক্যান্সার ভিটামিন কোনটি জানেন কি?

 


শরীরকে রোগ প্রতিরোধে সক্ষম রাখতে ভিটামিন ডি কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। সূর্যের আলো থেকে পাওয়া এই ভিটামিনকে অনেকেই সানশাইন ভিটামিন বলে জানেন। হাড়কে মজবুত রাখা থেকে শুরু করে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো পর্যন্ত অসংখ্য কাজ করে এটি।তবে সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, ভিটামিন ডি শুধু রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা শক্তিশালীই করে না, ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতেও ভূমিকা রাখতে পারে। এমনকি যাদের ক্যান্সার ধরা পড়েছে, তাদের ক্ষেত্রেও ভিটামিন ডি ভালো ফল দিতে পারে বলে পর্যবেক্ষণে পাওয়া গেছে। আর এ কারণে বিজ্ঞানীরা ভিটামিন ডিকে ক্যান্সার প্রতিরোধে সম্ভাবনাময় এক শক্তি হিসেবে বিবেচনা করছেন।


ক্যান্সারের বিরুদ্ধে শরীরে কীভাবে কাজ করে ভিটামিন ডিক্যালসিয়াম ভারসাম্য রক্ষা ছাড়াও ভিটামিন ডি শরীরে হরমোনের মতো কাজ করে। এটি কোষের ভেতরের জিনের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে, যেটি ক্যান্সার প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ভিটামিন ডি কোষের অনিয়ন্ত্রিত বৃদ্ধি কমায়, ক্ষতিকর বা বিপথগামী কোষকে স্বাভাবিক মৃত্যু বা অ্যাপোপটোসিসে ঠেলে দেয় এবং কোষ বিভাজনের গতি নিয়ন্ত্রণ করে। একই সঙ্গে এটি প্রদাহ কমায়, যা অনেক সময় টিউমার বৃদ্ধির পক্ষে অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে। তাছাড়া, ভিটামিন ডি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে এবং ক্যান্সার কোষকে পুষ্টি যোগাতে সক্ষম নতুন রক্তনালী গঠনের প্রক্রিয়াতেও নিয়ন্ত্রণ আনে। গবেষকদের মতে, এই সবগুলো মিলিয়েই ভিটামিন ডি ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি কমাতে এবং রোগের অগ্রগতি ধীর করতে ভূমিকা রাখে।বিজ্ঞান কী বলছে?


ভিটামিন ডি নিয়ে সবচেয়ে বড় গবেষণাগুলোর একটি হলো ভাইটাল ট্রায়াল। এতে প্রায় ২৫ হাজার সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ককে প্রতিদিন ২০০০ আইইউ ভিটামিন ডি অথবা প্লাসিবো দেওয়া হয় প্রায় পাঁচ বছর। বিশ্লেষণে দেখা যায়, যারা নিয়মিত ভিটামিন ডি নিয়েছেন তাদের মধ্যে উন্নত পর্যায়ের ক্যান্সার (মেটাস্টেটিক বা মৃত্যু-ঝুঁকিযুক্ত) হওয়ার হার ১৭ শতাংশ কম ছিল। স্বাভাবিক ওজনের মানুষের ক্ষেত্রে এই সুবিধা আরও পরিষ্কারভাবে দেখা গেছে। গবেষকদের মতে, ভিটামিন ডি ক্যান্সারের বিস্তার বা মৃত্যুঝুঁকি কমাতেও কার্যকর হতে পারে।


পর্যবেক্ষণভিত্তিক আরও তথ্য


পৃথক পর্যবেক্ষণভিত্তিক গবেষণায় দেখা গেছে, রক্তে ভিটামিন ডি'র মাত্রা বেশি থাকা মানুষের কোলোরেক্টাল ক্যান্সারসহ কিছু ধরনের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কম থাকে। একটি মেটা অ্যানালাইসিসে এমনকি দেখা গেছে, রক্তে পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে ক্যান্সারজনিত মৃত্যু ১৪ শতাংশ কম। তবে স্তন বা ফুসফুসের ক্যান্সারের ক্ষেত্রে ফলাফল মিশ্র, যা ইঙ্গিত দেয় যে ভিটামিন ডি'র প্রভাব টিউমারের ধরনভেদে পরিবর্তিত হতে পারে।


ভিটামিন ডির পর্যাপ্ততা কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?


ভিটামিন ডি মূলত আসে তিন উৎস থেকে। সূর্যের আলো, খাদ্য এবং সাপ্লিমেন্ট। নিরাপদভাবে সূর্যালোক গ্রহণ, ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার বা সাপ্লিমেন্ট—যেকোনো উৎস থেকেই নিয়মিত পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি গ্রহণ শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে পারে। গবেষণা বলছে, দৈনিক নিয়মিত মাত্রায় ভিটামিন ডি গ্রহণ মাঝে মাঝে উচ্চমাত্রার ডোজ নেওয়ার চেয়ে বেশি কার্যকর। বিশেষ করে ৭০ বছরের বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে ক্যান্সারজনিত মৃত্যুঝুঁকি কমাতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাকেন ব্যক্তিভিত্তিক কৌশল জরুরি?


ভিটামিন ডি এবং ক্যান্সার ঝুঁকির মধ্যে সম্পর্ক যতই আশাব্যঞ্জক হোক, সব ধরনের টিউমার বা সবার ক্ষেত্রে এর প্রভাব সমান নয়। অনেক গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতাযুক্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ভিটামিন ডি তেমন প্রভাব ফেলতে পারে না। আবার অতিরিক্ত সাপ্লিমেন্ট গ্রহণে টক্সিসিটি দেখা দিতে পারে, যা শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। তাই ভিটামিন ডি গ্রহণে ব্যক্তির বর্তমান ভিটামিন ডি লেভেল, ওজন এবং ক্যান্সারের ঝুঁকির আলাদা উপাদান বিবেচনায় নেওয়া জরুরিশেষ পর্যন্ত গবেষণা এখনো চলমান, তবে ধীরে ধীরে পরিষ্কার হচ্ছে যে শরীরে পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি বজায় রাখা সামগ্রিক স্বাস্থ্য রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং ক্যান্সারের মতো জটিল রোগের ঝুঁকি কমাতেও এটি সহায়ক হতে পারে।।খতে পারে।?

🎁 Your Special Offer is Loading...

Please wait a moment. You'll be redirected automatically after the countdown.

10s

⏳ Stay here — your offer will open in a new page.
✅ Redirect happens only once per session.

Post a Comment

Previous Post Next Post